ঢাকার সংবাদপত্র

এ শহরে মুদ্রণ যন্ত্র আসার পরে থেকেই প্রকাশিত হতে শুরু করে সংবাদপত্র। ইংরেজি, বাংলা ও উর্দু ভাষার এ সকল সংবাদপত্রগুলো প্রকাশিত হত সাপ্তাহিক, পাক্ষিক, মাসিক, ত্রৈমাসিক ভাবে। সংরক্ষণের অভাবে অনেক সংবাদপত্রের কোন কপিই এখন আর খুঁজে পাওয়া যায় না। তবে কিছু কিছু সংবাদপত্র সংরক্ষিত আছে। কোন কোন গ্রন্থের মাঝেও সংবাদপত্রের কিছু কিছু উপাত্ত্য খুঁজে পাওয়া যায়। ঢাকার এ সকল সংবাদপত্রের সংক্ষিপ্ত কিছু তথ্য এ অংশে আলোচনা করা হয়েছে।

এতোদিন ধারণা করা হত ঢাকায় প্রথম মুদ্রণ যন্ত্র স্থাপিত হয় ১৮৫৬ সালে দিকে। অধুনা এক তথ্যের ভিত্তিতে প্রমাণ পাওয়া যায় এই সময়ের অন্তত্য ৮/৯ বছর আগেও ঢাকার ছোট কাটরার একটি মুদ্রণযন্ত্র ছিল। এ সূত্র ধরেই বলা যেতে পারে ১৮৪৮/৪৯ সালে ঢাকার প্রথম মুদ্রণযন্ত্রটি কাজ শুরু করে। সম্ভবত ছোট কাটরার এই প্রেসটির নাম ছিল কাটরা প্রেস। মুন্দ্রণযন্ত্র প্রতিষ্ঠার পর থেকেই ঢাকায় শুরু হয় মুদ্রণ আন্দোলন। গুটি গুটি পায়ে এগিয়ে চলে প্রকাশনা জগৎ।

১৮৬০-১৯০০ সাল পর্যন্ত ঢাকা থেকে প্রকাশিত সংবাদপত্রের সংখ্যা প্রায় ৬০টি। এতোগুলো সংবাদপত্র প্রকাশিত হলেও সংরক্ষণের অভাবে এগুলো বর্তমানে প্রায় বিলুপ্ত। তারপরও অনেককিছু হারিয়ে গেলেও সবকিছু হারিয়ে যায় না। ঠিক তেমনি একটি পত্রিকা ঢাকার ইতিহাসে বিশেষ অবস্থান করে আছে। এ পত্রিকাটির নাম ‘ঢাকা প্রকাশ’।

নিয়মিত ও অনিয়মিতভাবে প্রায় দীর্ঘ ১০০ বছর টিকে ছিল পত্রিকাটি। এর অনেকগুলো সংখ্যা সংগ্রহশালাগুলোতে পাওয়া যায়। ঢাকার সংবাদপত্র প্রকাশনার ক্ষেত্রে হরিশচন্দ্র মিত্র, কালী প্রসন্ন ঘোষ, কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার, হাকিম হাবিবুর রহমান প্রমুখের নাম উল্লেখযোগ্য। তারা প্রত্যেকেই প্রায় সারাজীবন জুড়ে পত্রিকা প্রকাশনায় নিয়োজিত ছিলেন।

ঢাকা থেকে প্রকাশিত কয়েকটি পত্রিকা শাসকবর্গের গুণকীর্ত্তণে যেমন মগ্ন ছিল ঠিক পাশাপাশি বহু পত্রিকা ছিল শিল্প ও সংস্কৃতি নির্ভর ; এমনকি ঢাকা থেকে কবিতাপত্রও প্রকাশিত হবার খবর পাওয়া যায়। আবার নিজ ধর্মমতকে প্রকাশের জন্য পত্রিকা প্রকাশের প্রবনতাও লক্ষ্য করা যায় ঢাকায়। এমনকি ধর্মমত প্রচারিত একটি সংবাদপত্রের পাল্টা জবাব দেবার জন্য ভিন্ন ধর্মবিশ্বাসীদের পত্রিকা প্রকাশের বিষয়টিও লক্ষ্যণীয়। এছাড়াও বিভিন্ন সভা-সমিতির মুখপত্র হিসেবেও বেশকিছু পত্র-পত্রিকা প্রকাশের দৃষ্টান্ত রয়েছে ঢাকায়।

ঢাকা থেকে প্রকাশিত সংবাদপত্রের মধ্যে উল্লেখযোগ্য- ঢাকা প্রকাশ, ঢাকা বার্ত্তা/ঢাকা বার্ত্তা প্রকাশিকা, ঢাকা দর্পন, ঢাকা দর্শক, হিন্দু হিতৈষিণী, বিজ্ঞাপনী, সুভাষিণী, শুভ-সাধিনী, হিতকরী, শক্তি, সারস্বতপত্র, ঢাকা গেজেট, গরীব ইত্যাদি।

মূর্শেদূল মেরাজ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।

five × three =

এই শহর নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে যে তথ্য-উপাত্ত্য সংগ্রহ করেছি গত এক দশকের বেশি সময় ধরে তা নিয়ে কিছু একটা করবার ইচ্ছে ছিল বহুদিন ধরেই। নানা…

error: Content is protected !!