পরিব্রাজক হিউয়েন সাঙ

রাজধানী ঢাকার প্রাপ্ত চারশ বছরের ইতিহাসে দেখা যায় বহু বিদেশী পর্যটক পা রেখেছে এ শহরের মাটিতে। এ সকল পর্যটকের কেউ কেউ এসেছেন শুধু এই শহরকে দেখতে, কেউ এসেছেন আমন্ত্রণে, কেউবা সরকারি কাজে আবার কেউ ঢাকাকে বেছে নিয়েছিলেন ভ্রমণের মাঝে ট্রেনজিট পথ হিসেবে। আবার এ শহরে অনেকে এসেছেন ব্যবসায়ীক উদ্দেশ্যে বা কেবল আনন্দ করতে।

পর্যটকরা একেক জন ঢাকা সম্পর্কে একের রকম মত পোষণ করেছেন। তাদের কেউ কেউ ঢাকাকে বলেছেন সমৃদ্ধ নগরী হিসেবে আবার কেউ কেউ মন্তব্য করেছেন ঢাকা একটি অপরিচ্ছন্ন-নোংরা নগরী। অনেকে কেবল এক ঝলক দেখে যেমন মন্তব্য করেছেন এই শহর সম্পর্কে। অন্যদিকে কেউ কেউ দেখেছেন গভীরভাবে। তাদের বিশ্লেষণে উঠে এসেছে ঢাকার অনেক নাড়ি-নক্ষেত্রের কথা।

পর্যটকের লিখিত বক্তব্যকে ঐতিহাসিকরা অধিক গুরুত্ব দিতে নারাজ। কারণ অল্প সময়ের জন্য বাইরে থেকে আসা কোন মানুষের পক্ষে কোন স্থানের আর্থসামাজিক অবস্থা বোঝা মুশকিল। সেকারণে পর্যটকদের বর্ণনা বা বিশ্লেষণকৃত ব্যাখ্যা গুরুত্ব বহন করে না। আবার অনেকে মনে করেন কাছে থেকে যা দেখা সম্ভব হয় না ; দূর থেকে তা স্পষ্ট দেখা যায়। স্বার্থ বা ভীতির কারণে স্থানীয়দের লেখায় অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উল্লেখ করা সম্ভব হয়না ; যা পর্যটকদের লেখায় সহজেই চলে আসতে পারে।

পর্যটকদের লেখা নিয়ে এরূপ নানাবিধ তর্ক-বিতর্ক থাকলেও ঢাকা নিয়ে যে সকল পর্যটকরা লিখেছেন তাদের লেখা থেকে ঢাকার অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায়। যা না জানলে ঢাকাকে সঠিকভাবে জানা সম্ভব নয়। তাদের বর্ণনাকৃত সকল ব্যাখ্যাই যে সঠিক তা বলা যায় না। তবে ঢাকার ইতিহাসের বিচার-বিশ্লেষণ করতে গেলে সেগুলো অবশ্যই জরুরী।

একটি ছোট নগর থেকে ঢাকার ক্রমবিস্তারের কাহিনী খণ্ড খণ্ড চিত্র উঠে এসেছে ঢাকা আগত বিভিন্ন পর্যটকের লেখাতে। সতের শতকে ঢাকায় আসেন সেবাস্টিন মানরিক। তারপরে একে একে ঢাকায় আসেন নিকোলা মানুচি, থেভনো, টেভার্নিয়ার, টমাস বাউরি, বিশপ হেবার, কর্নেল ডেভিডসন প্রমুখ পর্যটকরা। এছাড়া বিভিন্ন সময় ঢাকায় আগত অনেকে ঢাকা নিয়ে তাদের মন্তব্য করেছেন।

এদের মধ্যে এ আলোচনায় যাদের নাম উঠে এসেছে তারা হলেন- মির্জা নাথান, ফ্রান্সিস বার্ণিয়ার, উইলিয়াম হেজেস, ডাক্তার হ্যামিল্টন, জেমস রেনেল, প্যাট্রিক গেড্ডেস, রবার্ট লিন্ডসে, রেভারেন্ড উইলিয়াম রবিনসন, ম্যাজিস্ট্রেট হেনরী ওয়াল্টার, ফ্রেডারিক জেমস হ্যালিডে, আর্থার লয়েড ক্লে, ডা উইলিয়াম হেনরী গ্রেগ, মোদাভ, এফ বি ব্রাডলী বার্ট, জেমস টেলর প্রমুখ। এরা প্রায় প্রত্যেকেই ঢাকায় আসেন বিভিন্ন সরকারি কাজে।

এছাড়াও বিভিন্ন সময় এসেছেন বেশ কয়েকজন কবি-সাহিত্যক ও সমাজ সেবী। এদের মধ্যে যাদের কথা এ অংশে এসেছে তারা হলেন- মাইকেল মধুসূদন দত্ত, কবি নবীনচন্দ্র সেন, কাজী নজরুল ইসলাম, শরৎচন্দ্র চট্টোপ্যাধায়, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, স্বামী বিবেকানন্দ, বিবি বেশান্ত, মুসশী গুলাম মুহম্মদ খাদেম, গণিউর রাজা প্রমুখ।

…………………………………………………………
চিত্র: পরিব্রাজক হিউয়েন সাঙ

মূর্শেদূল মেরাজ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।

2 × 1 =

এই শহর নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে যে তথ্য-উপাত্ত্য সংগ্রহ করেছি গত এক দশকের বেশি সময় ধরে তা নিয়ে কিছু একটা করবার ইচ্ছে ছিল বহুদিন ধরেই। নানা…

error: Content is protected !!