ঢাকার নাগরিক সুবিধা

প্রতিটি শহরেই কিছু নাগরিক সুবিধা দাবী রাখে শহরবাসী। এর প্রধানতম হচ্ছে যোগাযোগ ব্যবস্থা, শিক্ষা, চিকিৎসা, বিশুদ্ধ পানি ও খাবার, বিচারব্যবস্থা, পয়নিষ্কাশন ইত্যাদি।

মৌলিক এসব চাহিদার বাইরেও আরোকিছু সুবিধা দাবীদার শহরবাসী। এরমধ্যে উলে খযোগ্য ঢাকার পয়নিষ্কাশন ব্যবস্থা, বিদ্যুৎ বাতি, পানির ব্যবস্থা, ফায়ার বিগ্রেট সহ আরো কয়েকটি বিষয়।

সমাজে শ্রেণী বৈষম্য ছিল সব সময়ই। শাসকবর্গ যে সুবিধা ভোগ করে সাধারণ মানুষ তার নূন্যতম পেলেও তাদের জীবন মোটামুটি ভালভাবেই কেটে যেতে পারে। কিন্তু সমাজের উচ্চবিত্তের উদাসিনতায় নিম্নবর্গের মানুষের সামান্য অধিকারটুকুও তাদের কাছে পৌঁছায় না।

তাদেরকে সংগ্রামের মাধ্যমেই তা আদায় করে নিতে হয়। আবার অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় উচ্চবিত্তের সুবিধার জন্য গৃহীত পদক্ষেপে নিম্নবিত্ত কিছুটা সুবিধা ভোগ করতে পারে। এমনি কিছু বিষয় তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে এ অংশে।

মোগল শাসনামল থেকে শুরু করে ইংরেজ শাসনামলে ঢাকার নবাব পরিবার সকলেই শহরের সর্বোচ্চ সুবিধাটুকু গ্রহণ করেছে। যেমন বলা যেতে পারে শহরের নিম্নবর্গের মানুষ যেসময় সামান্য বস্ত্র পরিধান করতে পারত না।

সে সময় ঢাকায় বসবাসরত শাসকরা ঢাকায় প্রস্তুতকৃত উৎকৃষ্ট মসলিন দিয়ে তৈরি পোষাক পরিধান করত। তাদের মনরোঞ্জনের জন্য থাকত বাইজী, নর্তকী, খেমটাওয়ালীরা।

পলাশী পরবর্তী ঢাকাতে ঘটে যাওয়া বেশ কয়েকটি দুর্ভিক্ষসহ নানা প্রাকৃতিক বিপর্যয়েও উচ্চবৃত্তির মৃত্যুর সংবাদ পাওয়া যায় না। যা পাওয়া যায় তারা সকলেই শহরের নিম্নবিত্তের অধিবাসী।

তবে ঢাকার নিম্নবর্গের মানুষের জীবনযাত্রা নিয়ে গবেষণা না হওয়ায় তাদের প্রকৃত চিত্র তুলে ধরা প্রায় অসম্ভব। তবে নানা ঘটনা বিশ্লেষণে এটিই প্রতিয়মান হয় যে তাদের জীবন কাটত দৈনদশায়।

উচ্চবিত্তের করুণাবশত বা সামাজিক অবস্থান সুসংহত করার জন্য উনিশ শতকে শহরের ধনাঢ্য ও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের বেশ কিছু কর্মকাণ্ডের কথা জানা যায়। তার মধ্যে কিছু কিছু পদক্ষেপে উপকার পেয়েছিল শহরে বসবাসরত নিম্নবর্গের মানুষরা। সেগুলো নিয়েই আলোচনা করা হল এ অংশে।

মূর্শেদূল মেরাজ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।

10 + 2 =

এই শহর নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে যে তথ্য-উপাত্ত্য সংগ্রহ করেছি গত এক দশকের বেশি সময় ধরে তা নিয়ে কিছু একটা করবার ইচ্ছে ছিল বহুদিন ধরেই। নানা…

error: Content is protected !!