ঢাকার আন্দোলন

ঢাকার ইতিহাসে যুদ্ধ-বিদ্রোহ-আন্দোলন-দাঙ্গার বহু ঘটনা রয়েছে তবে তার সমান্য কয়েকটি ঘটনা সম্পর্কেই জানা যায়। আদিতে ঢাকায় মগ, পুর্তগিজ ও আরাকানিদের আক্রমণ ছিল নিয়মিত ঘটনা।

সতের শতকের দিকে মোগলরা যখন বাংলার রাজধানী হিসেবে ঢাকাকে নির্বাচন করে সে সময় থেকে আবার শুরু হয় স্বাধীন সুলতানদের বিপক্ষে মোগল শাসকদের হামলা-যুদ্ধ। ঢাকাকে সুবা বাংলার রাজধানী করার পরেই মোগলা বারো ভূঁইয়াদের বসে আনতে সমর্থা হয়।

অন্যদিকে মোগল পরিবারের অভ্যন্তরেই ক্ষমতার দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পরা মোগল সম্রাটদের পুত্ররা। তাদের আভ্যন্তরীণ বিদ্রোহর প্রভাব পরেছিল ঢাকাতেও। এর ফলে ঢাকাও আক্রান্ত হয়েছে বেশ কয়েকবার। মোগল শাহজাদা শাহজাহান দিল্লির মোগল সিংহাসন অধিকারে নিজ ভাইদের সঙ্গে যুদ্ধ লিপ্ত হন।

এমন পরিস্থিতিতে তিনি বাংলায় আক্রমণ পরিচালনা করেন। বাংলার তৎকালীন দায়িত্বপ্রাপ্ত সুবেদারকে পরাজিত করে প্রবেশ করেন ঢাকাতে। লুট করে নিয়ে যান ঢাকার কোষাগার, অস্ত্রশস্ত্র, হাতি-ঘোড়া।

এরপর শুরু হয় মোগল-ইংরেজ সংর্ঘষ। পলাশীর যুদ্ধের পরে ঢাকার ক্ষমতা চলে যায় ইষ্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির হাতে। তাদের নানারূপ শোষন-নিপিড়নের ফলে জনগণের মাঝে ধীরে ধীরে সংগ্রামী মনোভাবের সৃষ্টি হয়।

পলাশী যুদ্ধের একশ বছর পড়ে দেশী সৈন্যদের সঙ্গে বাঁধে ইংরেজ সৈন্যের সংর্ঘষ। ইতিহাসে এটি পরিচিতি পায় সিপাহি বিদ্রোহ নামে। ইংরেজ সৈন্যদের সঙ্গে যুদ্ধ করে তাদের বেশ কয়েক দিনের জন্য তাদের ঢাকার কুঠি দখল নেয় ফকির আন্দোলনের নেতা মজনু শাহ।

এরপর ভারতের ক্ষমতা নিয়ে নেয় স্বয়ং ইংরেজ সরকার। তারা প্রথমে নাম কয়াস্থে মোগল শাসকের একটি পদ বহাল রাখলেও কিছুদিন পরে ঢাকার মসনতে বসান তাদের উপাধি দেয়া নবাবদের। ঢাকার নবাবেরা ঢাকায় পঞ্চায়েতি প্রথা পুরজীবিত করে তোলে। নিয়ন্ত্রণ করতে শুরু করে ঢাকার মানুষকে।

ইংরেজ ঔপনিবেশিক শক্তির কাছ থেকে মুক্তি লাভের উদ্দেশ্যে ভারতের জনতা যখন সংঘটিত হচ্ছিল সে সময় ঢাকাও পিছিয়ে ছিল না। ঢাকাতেও গড়ে উঠতে শুরু করে ছোট ছোট গুপ্ত সংগঠন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল- অনুশীলন সমিতি, শ্রীসঙ্ঘ ইত্যাদি।

তারাও শহরে চালায় নানা ইংরেজ বিরোধী কর্মকাণ্ড। ইংরেজরা তাদেরকে চিহ্নিত আড্ডাগুলোতে তল্লাশী চালাতে শুরু করে নিয়মিত। নজরদারী বাড়িয়ে দেয়। তাদের অনেকে গ্রেফতার হয়, অনেকের দীর্ঘকালীন সাজাও হয়। ঢাকা জেলে ঠিকানা হয় অনেক বিপ্লবীর।

বিশ শতকের ত্রিশের দশক থেকে শহরে হিন্দু-মুসলমানের মাঝে শুরু হওয়া সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা চরমে উঠতে শুরু করে। ঢাকার বিদ্রোহ-আন্দোলন-দাঙ্গার বিস্তারিত তথ্য না পাওয়া গেলেও যা পাওয়া যায় তাতে অনেকটাই স্পষ্ট হয়ে উঠে ঢাকার নাগরিক জীবনের কথা।

মূর্শেদূল মেরাজ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।

one × 3 =

এই শহর নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে যে তথ্য-উপাত্ত্য সংগ্রহ করেছি গত এক দশকের বেশি সময় ধরে তা নিয়ে কিছু একটা করবার ইচ্ছে ছিল বহুদিন ধরেই। নানা…

error: Content is protected !!