ঢাকা মাদ্রাসা

আদিতে বাংলার এ অংশে রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণে কোন শিক্ষাব্যবস্থার প্রচলন ছিল এমন কোন তথ্য পাওয়া যায় না। তৎকালীন সময় ধনাঢ্যরা সন্তানের শিক্ষার ব্যবস্থা করতেন বাড়িতে। মন্দিরভিত্তিক শিক্ষা ব্যবস্থা থাকলেও তাতে সকলে শিক্ষা নিতে পারতো না। পণ্ডিতদের তত্ত্বাবধানে টোল চলতো। তাতে সামান্য সম্মানির বিনিময়ে শিক্ষার কার্যক্রম চলতো।

সুলতানী শাসনামলে বাংলায় মুসলমানদের জন্য প্রচলিত দু ধরনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কথা জানা যায়। এর একটি মাদ্রাসা আর অপরটি মক্তব। মক্তবগুলো ছিল মসজিদভিত্তিক ও স্বতন্ত্র। মক্তবে মূলত প্রাথমিক শিক্ষা দেয়া হত। আর মাদ্রাসা ছিল উচ্চ শিক্ষাকেন্দ্র। আনুমানিক বছর পাঁচেক থেকেই শিশুদের মক্তবে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাজীবন শুরু হত। তবে এই মসজিদ-মাদ্রাসা-খানকাভিত্তিক শিক্ষা ব্যবস্থায় মূলত ধর্মীয় শিক্ষাই প্রদান করা হত।

অন্যদিকে স্থানীয় শিক্ষাব্যবস্থার মধ্যে ছিল টোল-পাঠশালা ইত্যাদি। এই টোল ও পাঠশালার শিক্ষাব্যবস্থায় ছিল কিছুটা পার্থক্য। যতদূর জানা যায়, কেবলমাত্র ব্রাহ্মণ পণ্ডিতদের পরিচালিত শিক্ষাকেন্দ্রগুলোই পরিচিত ছিল টোল বা চতুষ্পঠী নামে। আর ব্রাহ্মণ ছাড়া অন্য যে কোন সম্প্রদায় বা বর্ণের শিক্ষকদের প্রতিষ্ঠিত বা পরিচালিত শিক্ষাকেন্দ্রগুলো পরিচিত ছিল পাঠশালা নামে।

সুলতানী শাসনামলের পর মোগল শাসনামলেও এ অঞ্চলে কোন শিক্ষানীতি ছিল বলে জানা যায় নি। এমনকি কোম্পানি শাসনামলের প্রথম ষাট-সত্তর বছর কোন শিক্ষানীতি প্রণীত হয়নি। নিতাই দাসের ঢাকার শিক্ষাব্যবস্থা ও তার বিবর্তন প্রবন্ধে এ প্রসঙ্গে উল্লেখ করেছেন, “ব্রিটিশ শাসনের পূর্বে ঢাকা শহরে মক্তব-মাদ্রাসা এবং টোল-চতুষ্পাঠী ছাড়াও অন্য ধরনের কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্ব ছিল।

এগুলোতে সম্প্রদায়-নির্বিশেষে সকলেরই প্রবেশাধিকার থাকতো। …উল্লেখিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে প্রাধান্য বিস্তার করেছিল পাঠশালা নামক শিক্ষাদান কেন্দ্রগুলো। সকালে অথবা বিকালে ছাত্রছাত্রীদের একজন শিক্ষকের অধীনে পড়তে হতো। শিক্ষককে সাধারণত ‘গুরুমশাই’ বলা হতো। প্রথম পর্যায়ে অক্ষর পরিচয় ও গণনা বা অঙ্ক শেখানো হতো।

সে যুগে ছাপার বই ছিল না, তাই গুরুমশাই তাল পাতা, কলা পাতা ইত্যাদিতে হস্ত লেখার অভ্যাস করাতেন এবং মুখে মুখে সুর করে ছাত্রছাত্রীদের পড়া মুখস্থ করাতেন। শিক্ষকের সঞ্চিত জ্ঞান অনুযায়ী শিক্ষাদানের মেয়াদ নির্দিষ্ট হতো। এখান থেকে শিক্ষাপ্রাপ্তরা জমিদারের সেরেস্তায় কিংবা দোননে-ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে কাজ পেতো অথবা নিজেরাই একটি নতুন পাঠশালা খুলে বসতো। …পাঠশালাগুলোতে ১০-১৫ জনের বেশি ছাত্র হতো না এবং শিক্ষক থাকতেন মাত্র ১ জন।”

জানা যায়, সেসময় একই পাঠশালাতে সকল শিক্ষার্থী লেখাপড়া করত। অল্পসংখ্যক হলেও এসব পাঠশালাতে কয়েকজন মুসলমান শিক্ষকও শিক্ষকতা করত। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে একজন শিক্ষকই পাঠশালা পরিচালনা করত। তার তত্ত্বাবধানেই পাঠশালার সকল কাজ পরিচালিত হত। তিনি পণ্ডিত মশাই, গুরু মশাই বা মিঞাসাব নামে পরিচিত হতেন।

তৎকালীন নিয়মানুযায়ী পাঠশালায় ভর্তি হলেই কাগজ-পেন্সিল দেয়া হত না শিক্ষার্থীকে। শিক্ষার্থীকে বেশ কয়েকটি ধাপ পেরিয়ে এসব প্রাপ্তির যোগ্যতা অর্জন করতে হত। সাধারণত ৪/৫ বছর বয়সে শিশুকে দেয়া হত পাঠশালায়।

প্রথম কয়েক মাস শিক্ষার্থীরা খাগড়ার কলম দিয়ে পাঠশালার উঠানের মাটিতে আঁচড় কেটে লিখত। মাটিতে লিখতে পারলে তাকে দেয়া হত তালপাতা, তালপাতায় উত্তীর্ণ হলে কলাপাতা ; সবশেষে দেয়া হত কাগজ। কাগজে লেখার অনুমতি পাওয়া শিক্ষার্থীদের কাছে ছিল একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা।

এ কাগজ লাভের দিন ছোটখাট একটি অনুষ্ঠানের মত হত। হিন্দু শিক্ষার্থী হলে গুরুমশাই বেশ ভাল দক্ষিণা পেতেন। আর মুসলমান শিক্ষার্থী হলে গুরু মশাইকে বাড়িতে দাওয়াত দিয়ে খাওয়ানোর নিয়ম ছিল। এ অচারটি ‘কাগজে ওঠা’ নামে পরিচিত ছিল।

একই কক্ষের ভেতরে বা গাছ তলাতে গুরুমশায়ের কাছে সকল শ্রেণীর বা স্তরের শিক্ষার্থীরা একসাথে শিক্ষা লাভ করত। বার্ষিক কোন পরীক্ষার ব্যবস্থা ছিল না পাঠশালাগুলোতে। গুরুর মূল্যায়নেই একজন শিক্ষার্থী এক স্তর থেকে অন্য স্তরে উন্নীত হতে পরত। সাধারণত খুব সকাল আর বিকাল বেলায় অর্থাৎ দু’বেলা পড়ান হত পাঠশালাগুলোতে।

পণ্ডিতমশাই পাঠশালায় মুখে মুখে অক্ষর, বর্ণমালা ও শতকিয়া পড়াতেন শিক্ষার্থীদের। সাথে পড়াতেন উপর টানা অক্ষর, জমিদারি-মহাজনীদের পত্র রাখা, কড়াকিয়া, গণ্ডাকিয়া ইত্যাদি। অপরদিকে মুসলমান শিক্ষা ব্যবস্থায় ছিল পার্শি সাহিত্য, ধর্মপুস্তক ইত্যাদি।

সেসময় পণ্ডিত মশাইয়ের কোন নির্দিষ্ট মাস-মাইনে ছিল না। গৃহস্থ ঘরের শিক্ষার্থীদের পাঠশালায় ভর্তি করার সময় ছাত্রদের মাইনা ঠিক করা হত। তালপাতা, কলাপাতা ও কাগজে শিক্ষা নেয়ার শিক্ষার্থীদের মাইনের হারও ছিল ভিন্ন।

পাঠশালা চালিয়ে পণ্ডিত মশাইদের আয় রোজগার খুব বেশি হত না। তাই শিক্ষকতার পাশাপাশি অন্যান্য কাজেও তাদের অনেকেই যুক্ত থাকতেন। অবশ্য ধর্মীয় অনুষ্ঠানগুলোর সময় শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা গুরুমশাইকে বাড়তি কিছু দিত।

পণ্ডিত মশাইদের অনেক মানবিক গুণের পাশাপাশি শাস্তি প্রদান বিষয়টি ছিল অত্যন্ত অমানবিক। বেত্রাঘাত, জলবিছুটি, চ্যাংদোলার মত বিচিত্র সব শাস্তির বিধান ছিল সেসময়। পড়া না শিখলে এসব শাস্তি ভোগ করতে হতো শিক্ষার্থীকে। ঢাকার আদি শিক্ষা সম্পর্কে নির্দিষ্ট করে সেভাবে তথ্য পাওয়া যায় না। যে যৎ সামান্য তথ্য পাওয়া যায় তাও প্রায় সবই সাহিত্যের পাতা থেকে নেয়া। ইতিহাসে পাতায় খুঁজলে সেভাবে কিছুই পাওয়া যায় না।

কেদারনাথ মজুমদারের ঢাকার বিবরণী গ্রন্থে উল্লেখ রয়েছে- “১৮৩৮ সালে ঢাকায় ১১টি হিন্দু, ৯টি মুসলমান বিদ্যালয় ছিল। তন্মধ্যে হিন্দু শিক্ষার্থী ছিল ৩০২ জন এবং মুসলমান শিক্ষার্থীদের সংখ্যা ছিল ১১৫ জন। গরিবেরা বিনা বেতনে পড়াশুনার সুবিধা ভোগ করত।”

১৮১৮ সালে ব্যাপ্টিস্ট মিশানারীর লিওনার্দের চেষ্টায় ঢাকায় ২টি ইংরেজি স্কুল প্রতিষ্ঠা পায় ; এ স্কুলটির ছাত্রসংখ্যা ছিল ১৪০ জন (মতান্তরে, ১৪০০)। ১৮২৪ সালে ঢাকায় এধরণের স্কুলের সংখ্যা দাঁড়ায় ২৬টিতে। একই বছরে ব্যাপ্টিস্ট মিশনারীর প্রচেষ্টায় ঢাকায় প্রতিষ্ঠিত তাদের বেশ কয়েকটি স্কুলের মাধ্যমে ১৩০০-১৫০০ শিক্ষার্থীকে শিক্ষাদান প্রদান করেছিল বলে জানা যায়।

১৮৩৫ সালে শহরে শিক্ষা বিস্তারের উদ্দেশ্যে লোকাল এডুকেশন কমিটি/স্থানীয় শিক্ষা কমিটি গঠন করা হয়। ১৮৪১ সালে ঢাকায় ১১টি পাঠশালা, ৯টি মক্তব, ১১টি ব্যাপ্টিস্ট স্কুল নিয়ে মোট ৩১টি প্রাথমিক ও একটি ইংরেজি উচ্চ বিদ্যালয় ছিল বলে জানা যায়।

১৮৩৮ সালের শিক্ষা কমিটির রিপোর্ট থেকে পাওয়া যায়- ঐ সময় ঢাকায় বালক-বালিকাদের জন্য বেশ কয়েকটি ইংরেজি বিদ্যালয় ছিল। ঐ সকল স্কুল ব্যপ্টিস্ট মিশন সোসাইটির খরচে পরিচালিত হত। গর্ভনমেন্ট থেকে মাসিক ২০০ টাকা করে অনুদান দেয়া হত স্কুলগুলোকে।

১৮৬৭ সালের মধ্যে ঢাকায় আরো বেশ কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করা হয়। এর মধ্যে ছিল- ৫টি উচ্চ এ্যাংলো ভার্নাকুলার স্কুল, ৭টি মিডল ভার্নাকুলার স্কুল, ৫টি প্রাথমিক বালিকা স্কুল ও ২টি নৈশ স্কুল। কিন্তু পৃষ্ঠপোষকতা ও প্রয়োজনীয় অর্থের অভাবে ঢাকায় গজিয়ে ওঠা অনেক স্কুলই প্রতিষ্ঠার কিছু দিন পরেই বন্ধ হয়ে যায়।

তারপরেও ১৮৬৭ সালে ঢাকায় বিভিন্ন স্কুলে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল তিন হাজারেরও বেশি। ১৯১৭ সালের মধ্যে ঢাকায় ৫টি ইংরেজি স্কুল ও ১টি ফারসি ভাষা মাধ্যমের স্কুল প্রতিষ্ঠা করে ব্যাপ্টিস্ট মিশনারী কর্তৃপক্ষ।

ঢাকা পৌরসভা প্রতিষ্ঠার পরে ঢাকা পৌর কর্তৃপক্ষের কাছে প্রাথমিক শিক্ষার দায়িত্ব তুলে দেয়া হয়। ঢাকার বিশিষ্ট নাগরিক ও নর্মাল স্কুলের প্রধানশিক্ষক দীননাথ সেন এক রিপোর্টে উল্লেখ করেন- “ঢাকা শহরে মুসলমানদের সংখ্যাই বেশি কিন্তু নর্মাল স্কুলে অন্য ছাত্রের তুলনায় তাদের সংখ্যা কম। হিন্দু সমাজের মত মুসলমান সমাজে জাতিভেদ নেই। সমাজে তাদের দুটি প্রধান স্তর।

অভিজাত ও অনভিজাত। ধর্মীয় কারণে যা প্রয়োজন এর বাইরে অভিজাতরা কোন শিক্ষায় শিক্ষিত হতে চায় না। অনভিজাতরাও শিক্ষায় আকৃষ্ট না হয়ে ছোটখাট ব্যবসায়ে নিযুক্ত থাকে। সুতরাং শিক্ষা বিভাগ প্রদত্ত শিক্ষা সংক্রান্ত সুযোগ-সুবিধাও তারা গ্রহণ করে।

শহরে এই দুই শ্রেণী ব্যতীত একটি মুসলিম যুবক শ্রেণী রয়েছে যারা শিক্ষার সঙ্গে যুক্ত ছিল। এরা তালবেলেম নামে সমাজে পরিচিত ছিল। বাংলার বিভিন্ন স্থান থেকে ঢাকায় এসে এরা শিক্ষার জন্য অবস্থান করত। তাদের গড় বয়স ছিল ১৭ থেকে ১৮ বছর। তাদের নিজ অঞ্চল থেকে তারা প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করে ঢাকায় আসত অধিক শিক্ষার জন্য।

শহরে এসে মক্তব বা নামকরা মৌলভীর কাছে এরা আরবি ও ফারসি শিক্ষা গ্রহণ করত। প্রাচীন ধারায় এরা শিক্ষাগ্রহণ করলেও এদের জ্ঞানস্পৃহা ছিল প্রশংসনীয়।”

কামরুদ্দিন আহমদ তার বাংলার মধ্যবিত্তের আত্মবিকাশ গ্রন্থে পঞ্চাশ বছর আগের ঢাকার স্মৃতিকথায় লিখেছেন- “মফস্বল হ’তে আগত ব্যবসায়ী ও বুদ্ধিজীবী, বর্ণ হিন্দু সম্প্রদায় যারা। ঢাকা শহরে স্থায়ীভাবে বাস করতে এসেছিলেন-তাদের মধ্যে অনেকেই স্কুল, কলেজ প্রতিষ্ঠা করে গেছেন।

…মফস্বল থেকে বেশ কযেক ঘর মুসলমানও ঢাকা শহরে বাড়ী-ঘর করতে থাকেন। তরা বেশীর ভাগই গ্রামের জমিদার বা তালুকদার। শহরে বাড়ী করতেন সমাজে মান বাড়াবার জন্য। তাদের মধ্যে খুব অল্প সংখ্যক লোকই ছিল বুদ্ধিজীবী, ব্যবসায়ীতো ছিলই না। এদের বেশীর ভাগই গাঁয়ের সঙ্গে সম্পর্ক রাখতেন।

তাদের অনেকেই যে সব আনন্দ-স্ফূতির কোন ব্যবস্থা গ্রামে ছিল না বা গ্রাম সমাজে যে সকল কাজকে অন্যায় ও অসামজিক বলে গণ্য করা হত সে সব আনন্দ বা জীবন উপভোগ করার জন্য তারা শহরে বাড়ী করতেন। সে কারণে তারাও ঢাকার রইসদের ব্যাপারে শিক্ষা-দীক্ষার জন্য অমনোযোগী ছিলেন। অবশ্যই বর্ণ হিন্দুদের সম্বন্ধেও একই কথা বলা চলে কারণ তারাও হিন্দু রইস, শাঁখারী বা তাঁতীদের লেখাপড়া শেখাবার জন্য কোন ব্যবস্থাই করেননি।”

আঠার শতকে ঢাকাস্থ আরমানিয়ান অধিবাসীদের পক্ষ থেকে প্রতিষ্ঠিত বেসরকারী স্কুল শহরের উচ্চবিত্তের শিক্ষার আরেকটি বিকল্প ক্ষেত্র তৈরি করে। অপরদিকে উনিশ শতকে ঢাকা ব্রাহ্ম সমাজ শহরে শিক্ষাবিস্তারে বিশেষ ভূমিকা পালন করে। পরবর্তীতে ঢাকার ধনাঢ্য ব্যক্তি ও ঢাকার নবাবদের পৃষ্ঠপোষকতায় ঢাকায় গড়ে উঠতে শুরু করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এরই ধারাবাহিকতায় ১৯২১ সালে ঢাকায় প্রতিষ্ঠিত হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

মূর্শেদূল মেরাজ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।

fourteen − 11 =

এই শহর নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে যে তথ্য-উপাত্ত্য সংগ্রহ করেছি গত এক দশকের বেশি সময় ধরে তা নিয়ে কিছু একটা করবার ইচ্ছে ছিল বহুদিন ধরেই। নানা…

error: Content is protected !!